সর্বশেষ

এইচআইভি রোগী শনাক্ত ১৬ জন রোহিঙ্গা

অক্টোবর ১০, ২০১৭

অনলাইন ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে  থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রচণ্ড স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে। সেনাবাহিনীর নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার থেকে প্রাণে বাঁচলেও কক্সবাজার শিবিরে রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই অপুষ্টিসহ নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পুষ্টিহীনতা, চর্মরোগ, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি সংক্রামক নানা রোগসহ দিন দিন দীর্ঘতর হচ্ছে এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত রোগীর তালিকাও।

ইতিমধ্যে ১৬ রোহিঙ্গাকে এইডস রোগী হিসেবে শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শরণার্থীর মাঝে নিয়মিত চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে এই ১৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একটি জায়গায় আলাদাভাবে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম জানান, ১৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে এইডস রোগ শনাক্ত করা গেছে। তারা সবাই নতুন এসেছেন। এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি জানান। তবে ওইসব রোগীদের কোথায় রাখা হয়েছে, তাদের বয়স কত, কয়জন নারী-পুরুষের এইডস শনাক্ত হয়েছে এসব প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। চিকিৎসকরা গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো একজন এইডস রোগীকে শনাক্ত করেছিল।

গত ২৫ আগস্টের পর সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রতিদিন অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। অসুস্থ হয়ে অনেকেই বাংলাদেশে ঢুকেছে। এ ছাড়া আহত ও অসুস্থ রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পোলিও, যক্ষ্মা ও হামের মতো সংক্রমণ রোগের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা এইচআইভি/এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।

তারা বলেন, মিয়ানমারে বাংলাদেশের চেয়ে এইচআইভিআক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অরক্ষিত যৌনাচার রয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা নারীদের অনেকে যৌন হয়রানির শিকার। এই জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন মো. আবদুস সালাম বলেন, বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শিশু অপুষ্টির শিকার। তাদের অনেকে হাম, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। টেকনাফ ও উখিয়ার সব রোহিঙ্গা শিশুকে হাম ও পোলিও টিকা দেয়ার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

​Leave a Comment