সর্বশেষ

কাকরাইলে মা-ছেলে খুন

নভেম্বর ৫, ২০১৭

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর কাকরাইলে চলচ্চিত্র প্রযোজক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শেখ মো: আব্দুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম শাওনকে হত্যা করেছে তৃতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তার ছোট ভাই আল আমিন জনি। গতকাল শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর থানার মালাদিয়া গ্রাম থেকে জনিকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জনি একাই হত্যাকান্ডে অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।

জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন ওরফে জনি বলে, তার বোন মুক্তাকে চার বছর আগে আবদুল করিম বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাকে নয়াপল্টনে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতে দেন করিম। ওই ফ্ল্যাটে তাদের মা ও তার ৭ বছরের মেয়ে থাকতো। বছর দুয়েক পর করিমের প্রথম স্ত্রী তার বোনকে বিয়ে করার ঘটনা জানতে পারেন। এরপর থেকে পারিবারিক কোন্দল শুরু হয়। আব্দুল করিমের সমুদয় সম্পত্তি শামসুন্নহারের নামে। এসব নিয়ে তার বোনের সাথে শামসুন্নাহারের বিরোধ শুরু হয়। করিমের সাথেও এসব নিয়ে শামসুন্নাহারের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিরোধ এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো যে শামসুন্নাহারের চাপে তার বোনকে তালাক দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন করিম। এ ঘটনায় তার বোন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলো। পরে তার বোনের সংসার টেকানোর জন্য শামসুন্নহারারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

                                                                                  আল আমিন জনি

যেভাবে হত্যাকান্ড :জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সে নিউমার্কেট এলাকা থেকে ১১ শ টাকায় একটি ধারালো ছুরি কেনে। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ব্যাগে ছুরি, লুঙ্গি ও গেঞ্জি নিয়ে বাসা হতে বের হয়। পরে সে শামসুন্নহারের ফ্লাটে যায়। সন্ধ্যায় সেখানে পৌছে কলিং বেলে চাপ দেয়। গৃহকর্মী রাশিদা দরজা খুলে দিলে সে ঘরে প্রবেশ করে। ওই সময় শামসুন্নাহার তার বেড রুমে ছিলেন। তাকে দরজা খুলে দিয়ে গৃহকর্মী রান্না ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় জনি রান্না ঘরের দরজা বাইরে থেকে লক করে দেয়। এরপর সে বেডরুমে শামসুন্নাহারকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ওই সময় শাওন এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও কোপাতে থাকে। এসময় শাওনের সঙ্গে ছুরি নিয়ে ধস্তাধস্তির সময় ছুরির আঘাতে তার আঙ্গুল কেটে যায়। এক পর্যায়ে শামসুন্নাহারের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও পাশে শাওনকে দেখতে না পেয়ে বাইরে এসে দেখে সে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করছে। এক পর্যায়ে সিঁড়িতে পড়ে যায় শাওন। জনি তখন ৫ম তলায় গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে লুঙ্গ ও গেঞ্জি পরে। পরে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপতালে গিয়ে মাসুদ নাম ব্যবহার করে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়।

গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। তিনি জানান, হত্যাকান্ডের পর জনি বাসা থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে দারোয়ানকে বলে— ওপরে ঝামেলা হচ্ছে, আপনি যান। এই বলে সে ভবন থেকে বেরিয়ে আসে।

নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলীর বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আব্দুল করিম ও শারমিন আক্তার মুক্তা ছাড়াও ৩ নম্বর আসামি হিসাবে জনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় করিম ও মুক্তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

​Leave a Comment