সর্বশেষ

কড়া নিরাপত্তা তিন সিটিতে

জুলাই ২৯, ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক :  রাত পোহালেই আগামীকাল রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ। তিন সিটির ভোট নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাশাশি রয়েছে উৎকণ্ঠাও। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিন সিটিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ চলবে তিন সিটিতে। আজ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল পাঠাবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। এ ছাড়া অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল মধ্যরাতে প্রচারণা শেষ হয়েছে। তিন সিটিতে ভোট উৎসব পালনে প্রস্তুত রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। অপেক্ষা শুধু ভোটগ্রহণের। তিন সিটিতে নির্বাচনী লড়াইয়ে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জাপাসহ কয়েকটি দলের প্রার্থী থাকলেও মূলত নির্বাচনী মাঠে নৌকা-ধানের শীষের লড়াই হবে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ভোট উৎসব উত্তাপ ছড়াচ্ছে তিন সিটিতে। তবে ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা সংশয় রয়েছে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে। গত শুক্রবার রাতে বরিশালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আর রাজশাহী সিটিতে শেষ সময় প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। পোলিং এজেন্ট গ্রেফতারের অভিযোগের পাশাপাশি নির্বাচন অফিসের ইট খুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলছেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে অভিযোগ করার জন্য। সিলেট সিটিতে শেষ মুহূর্তে এসে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ)। আর সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের সব ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আশ্বস্ত হতে পারছেন না বিএনপি। নির্বাচনের দিন নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া যাবে কি না, সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কিনা, তা নিয়ে আতঙ্কে নগরবাসী।

রাজশাহী : এ সিটিতে পভাটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন এবং নারী ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৩০, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১০। ভোট কেন্দ্র ১৩৮ ও ভোটকক্ষ ১০২৬টি। তবে ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে নির্বাচন অফিস এই কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেখছে। এ জন্য কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহলসহ নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। ভোটের পরের দিন পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন। এ সিটিতে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২১৭ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে প্রার্থী আছেন পাঁচজন। আর ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আছেন ১৬০ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৫২ জন। মেয়র প্রার্থীরা হলেন— আওয়ামী লীগের এ এইচ এম খাযরুজ্জামান লিটন, বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ।

বরিশাল : এ সিটিতে ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৩০, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১০। ভোট কেন্দ্র ১২৩ ও ভোটকক্ষ ৭৫০টি। বরিশাল সিটিতে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের সাদিক আবদুল্লাহ, বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস, কমিউনিস্ট পার্টির এ কে আজাদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মনীষা চক্রবর্ত্তী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওবাইদুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বশীর আহমেদ ঝুনু। এ সিটির ৪টি ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে। সিটি করপোরেশনের ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টির অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও ৬২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১১টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা। অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, এপিবিএন এবং আনসার মিলিয়ে ১৪ জন সশস্ত্রসহ মোট ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে ১২ জন সশস্ত্র পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারসহ মোট ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। থাকছেন ১০ জন নির্বাহী এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া ১৯ প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও র‌্যাবের ৩৫টি টহল দল ও সাদা পোশাকধারীসহ প্রায় সাড়ে ৩০০ সদস্য কেন্দ্রের বাইরে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

সিলেট : এ সিটিতে ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন এবং নারী ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ২৭, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৯। ভোট কেন্দ্র ১৩৪ ও ভোটকক্ষ ৯২৬টি। এ নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ৭ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মোয়াজ্জেম হোসেন খান, সিপিবি-বাসদ প্রার্থী মো. আবু জাফর, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম। যদিও সেলিম নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ সিটির ৮০টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। ‘সাধারণ’ তালিকায় থাকা কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন সদস্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোতে ২৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি। নিরাপত্তায় র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া মাঠে রয়েছে ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে থাকছে ২৭টি মোবাইল ফোর্স। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যের সমন্বয়ে এর প্রতিটিতে সদস্য থাকবে ৩০ জন। ২৭টি ওয়ার্ডে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা থাকবে ৯টি। এর বাইরে নগরীর প্রতি দুই ওয়ার্ড মিলিয়ে এক প্লাটুন বিজিবি মাঠে থাকবে। নগরীর প্রতি ওয়ার্ডে টহল দেবে র‌্যাবের একটি করে টিম। সেই সঙ্গে মাঠে থাকবেন ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট।

​Leave a Comment