সর্বশেষ

দুর্নীতিবাজদের মধ্যে বিশ্বে তৃতীয় খালেদা

জানুয়ারি ১১, ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক:  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই ছেলের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, জনগণের সম্পদ আর লুটপাট ও পাচার করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপকর্ম তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি। এতে প্যারাডাইজে পেপারসের তালিকাসহ অর্থপাচারের প্রসঙ্গ ছিল।  জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসংক্রান্ত রিপোর্ট তুলে ধরে বলেন, এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকারের সব সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ২০১২ সালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার সে দেশ থেকে ফেরত আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য ‘পাগলের প্রলাপ’ হিসেবে ধরে নেওয়াই ভালো। কারণ প্রবাদ আছে পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী বলেছেন পদ্মা সেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে এবং তাঁর দলের নেতাদের ওই সেতুতে না উঠতে বলেছেন। এর আমি কী জবাব দেব? ’৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসার পর তখনই পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেই। জাপান সফরের সময় পদ্মা ও রূপসা সেতু দুটি নির্মাণে অর্থায়নের জন্য দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই। জাপান সরকার সমীক্ষা করে যে জায়গা নির্ধারণ করে, সেই স্থানে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনও করি। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা এসে এই সেতু নির্মাণ বন্ধ করে দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীর ছেলে তারেক রহমান দেশের বাইরে প্রচুর অর্থপাচার করেছে। তারেক এবং তার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুন যৌথভাবে একটি বিদেশি কম্পানিকে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ২১ কোটি টাকার মতো সিঙ্গাপুরে সিটিএনএ ব্যাংকে পাচার করেছে। এ ব্যাপারে শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকার এফবিআইও তদন্ত করেছে। এর সূত্র ধরে এফবিআইয়ের ফিল্ড এজেন্ট ডেবরা ল্যাপরিভোট ২০১২ সালে ঢাকায় বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। এ মামলায় হাইকোর্টে তারেক রহমানের সাত বছরের সাজা হয়। একইভাবে লন্ডনের ব্যাংকেও প্রায় ছয় কোটি টাকা পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের আরো অনেক দেশে খালেদা জিয়ার ছেলেদের টাকার সন্ধ্যান পাওয়া গেছে, যা এখনো তদন্তাধীন। এর মধ্যে অন্যতম হলো : বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার, দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি, সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তি। সংসদ নেতা বলেন, পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকায় খালেদা জিয়া তিন নম্বর হিসেবে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়াতে এসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। খালেদা জিয়া এসব সংবাদের কোনো প্রতিবাদ জানায়নি।

বিদেশে খালেদা জিয়া পরিবারের সম্পদ ও প্যারাডাইজ পেপারসে বাংলাদেশিদের নাম নিয়ে প্রকাশিত ৮৫টি সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিশিষ্টে সংযুক্ত করা হয়।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন তথ্য, বিভিন্নভাবে দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের কাজ চলছে কিভাবে টাকা ফেরত আনা যায়—এ নিয়ে। এখানে ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে যা পেয়েছি তা-ই দিয়েছি। এর মধ্যে থেকে কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা তারাই বলতে পারবে। যদি মিথ্যা অভিযোগ থাকে তবে তারা নিশ্চয়ই সেটা মোকাবেলা করবে। যেমন—পদ্মা সেতু নিয়ে অভিযোগ ছিল আমরা মোকাবেলা করেছি, সেখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি বারবার একটা কথাই বলেছি, আমি নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য রাজনীতি করি না। ক্ষমতাটা আমার কাছে নিজের ভোগ-বিলাস বা ভাগ্য গড়ার জন্য নয়, জনগণের সেবা করার জন্য, জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্য, জনগণের উন্নয়ন করার জন্য, এই ক্ষমতাটা। ক্ষমতাটা সেই ভাবেই দেখি।’

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে একটি দল (বিএনপি) নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে দেশের শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার মতো বীভৎস কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। কিন্তু এসব নাশকতা চালিয়ে তারা জনগণের সমর্থন পায়নি, বরং দেশবাসীই তা প্রতিরোধ করেছে। আগামী নির্বাচনও কেউ বানচালের চেষ্টা করলে দেশের জনগণই ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে, সেই বিশ্বাস আমার রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরও দেশের ৪০ ভাগেরও বেশি মানুষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতা রয়েছে বলেই দেশের মানুষ তার সুফল পাচ্ছে। আগামী দিনেও সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আমরা যেসব মেগা প্রকল্পগুলো নিয়েছি তা সম্পন্ন করতে পারব, দেশ আরো উন্নত ও এগিয়ে যাবে। তবে দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, আগামী নির্বাচনও কেউ যদি বানচালের চেষ্টা করে জনগণই তা প্রতিরোধ করবে, সেই বিশ্বাস আমার রয়েছে।’

​Leave a Comment