সর্বশেষ

ধানমন্ডিতে গুজব, হামলা-গুলি, সংঘর্ষ

আগস্ট ৫, ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক:  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল থেকেই ধানমন্ডির আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও এর আশপাশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের মোড়ে আন্দোলনরত কিছু ছাত্রছাত্রী গাড়ির কাগজপত্র চেক করছিলেন। সকালের দিকে আওয়ামী লীগের এক নেতার গাড়িচালকের লাইসেন্স ও কাগজপত্র চেক করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

বেলা একটার দিকে গুজব ছড়ায়, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গেছেন। এরপর সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে শিক্ষার্থীরা সীমান্ত স্কয়ারের দিকে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছালে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিক থেকে মাথায় হেলমেট পরে, হাতে লাঠি নিয়ে বিভিন্ন বয়সের লোকজন শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। শিক্ষার্থীরা বিজিবি ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। ফটকের দায়িত্বে থাকা বিজিবির সেনারা হামলাকারীদের নিরস্ত করেন। একপর্যায়ে বিজিবি তাদের দায়িত্বে ফিরে যায়।

তখন আবারও লাঠিসোঁটা ও ইট হাতে হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় কয়েক দফা ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায় বলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানায়।

শিক্ষার্থীরাও গাছের ডাল, ইটপাটকেল নিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীদের জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের দিকে সরিয়ে দেয়। পরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা, রড, রামদা নিয়ে ছাত্রদের ধাওয়া দেন এবং সীমান্ত স্কয়ারের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চারজনের মৃত্যুর কথা ছড়িয়ে পড়ে। তাতে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলে বিকেল পৌনে চারটার সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিক থেকে ছোড়া ইটপাটকেল বিজিবি সদস্যদের গায়ে পড়লে কয়েকজন সদস্য আহত হন। তখন বিজিবির ৪০-৫০ জন সদস্য বেরিয়ে এসে দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। একই সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপও নেতা-কর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে চারটার সময় হামলাকারীদের মধ্য থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে দুই ব্যক্তিকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। তাদের একজনের পরনে ছিল ফুলতোলা লাল শার্ট, অন্যজনের পরনে সবুজ রঙের পাঞ্জাবি। ছাত্ররা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা আবার জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের দিকে চলে যায়। মিনিট দশেক পর সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবককে হামলাকারীদের সামনে অবস্থান নিয়ে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। গুলি ছুড়েই তিনি পুলিশের জটলার মধ্যে ঢুকে পড়েন।

      পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা

​Leave a Comment