সর্বশেষ

বিএনপির প্রার্থী সাকা পরিবারে?

ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭

অনলাইন ডেস্ক : মামলা ও গ্রেপ্তার–আতঙ্কে প্রকাশ্যে দলীয় কর্মসূচি সেভাবে পালন করতে পারে না চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি। উপজেলার পোমরা এলাকার জিয়ানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম মাজার এলাকায় ক্ষুদ্র পরিসরে তড়িঘড়ি করে দিবসভিত্তিক কিছু কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়েই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ। তাও পুলিশ আসার আগেই ছবি তোলা এবং পরে তা ফেসবুকে প্রচার করার মধ্যেই উপজেলা বিএনপির কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকে। সর্বশেষ ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে পারেননি নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বলেন, সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় তাঁদের। তবে সমাবেশ করার জন্য পুলিশের কাছে কখনো আবেদন করেনি উপজেলা বিএনপি।

দলীয় কর্মসূচি পালন করতে না পারলেও রাঙ্গুনিয়ার তৃণমূল পর্যায়ের নেতা, কর্মী, সমর্থকদের দাবি, সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি এখানে ভালো করবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দলের প্রার্থী কে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নেতা-কর্মীরা বলেন, যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর স্ত্রী বা ছেলে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে থেকে নির্বাচন করতে পারেন। সালাউদ্দিনের স্ত্রী ফরহাদ কাদের চৌধুরী এবং ছোট ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর মধে একজন বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন বলে তাঁরা জানান। দুজনের কেউ নির্বাচন না করলে সালাউদ্দিনের ভাই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এই আসন থেকে লড়বেন।

প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাড়ি রাউজানের রাঙ্গুনিয়া থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন তিনি। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই এলাকা থেকে দুবার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। রাঙ্গুনিয়ায় সাকা পরিবারের খামারবাড়ি রয়েছে।

উপজেলার জিয়ানগর, শান্তিরহাট, ইছাখালী, রোয়াজারহাট, মরিয়মনগর, চন্দ্রঘোনা, লিচুবাগানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোথাও বিএনপির কোনো ব্যানার কিংবা দেয়াললিখন চোখে পড়েনি। তবে এসব এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পোস্টার-ব্যানার চোখে পড়ার মতো।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির একজনও প্রার্থী হননি। যোগ্য প্রার্থী থাকলেও মামলা ও গ্রেপ্তার–আতঙ্কে কেউ প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেননি। এ কারণে ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী-সমর্থক চারজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। বাকিরা ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে স্থানীয় বিএনপির বেশির ভাগ নেতা চট্টগ্রাম শহরে থাকেন। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা কারও মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নিতে শুধু এলাকায় যান।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। সর্বশেষ ২০১৪ সালে শওকত আলী নুরকে আহ্বায়ক করে দলের উপজেলা কমিটি গঠিত হয়। তিনি নিজেও বেশির ভাগ সময় এলাকায় থাকেন না। এ বিষয়ে শওকত আলী নুর প্রথম আলোকে বলেন, গত তিন বছর এলাকায় ঈদ করতে পারেননি। সাধারণ নেতা-কর্মীদেরও একই অবস্থা। এলাকায় তাঁরা কোনো দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারেন না। করলে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায়। কিছু দিন আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে যান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তখন রাঙ্গুনিয়া থেকে অনেক নেতা-কর্মী সেখানে যান। বাড়ি ফেরার পর পুলিশ প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাড়াবাড়ি না করতে।

অবশ্য প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীকে হয়রানি করা হয়নি দাবি করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান চৌধুরী।

বিএনপির কর্মীদের গ্রেপ্তার ও মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগের বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে গাড়ি ভাঙচুরসহ নাশকতার মামলা রয়েছে, পুলিশ তাদের ধরার চেষ্টা করছে। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না দাবি করেন তিনি।
২০০৮ সালের নির্বাচনে সাকা চৌধুরীকে হারিয়ে এই আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। সর্বশেষ ২০১৪ সালের একতরফা সংসদ নির্বাচনেও তিনি এই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ হন।
এদিকে প্রকাশ্যে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে না পারলেও এলাকার সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শওকত আলী নুর। তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ও ছেলের মধে একজন এই আসন থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। সে লক্ষে নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন। এলাকায় তাঁদের জনসমর্থনও রয়েছে। এর বাইরে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর জন্য সবাই কাজ করে যাবেন। দলে কোনো কোন্দল নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত বলেন, সালাউদ্দিনের পরিবারের কেউ দল থেকে নির্বাচনে অংশ না নিলে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রাঙ্গুনিয়াবাসীর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক বাস্তবতায় অতীতের মতো বিএনপির চেয়ারপারসন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের এই আসনে মনোনয়ন দিলে তাঁরা অংশগ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে, সাকা চৌধুরীর ভাই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, যদি তাঁর ভাবি ও ভাতিজা—এই দুজনের কেউ রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচন করেন, তাহলে তিনি করবেন না। তবে তাঁরা নির্বাচন না করলে তিনি এই আসন থেকে প্রার্থী হবেন।

​Leave a Comment